বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সন্তানের মৃত্যু, বাবাও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ইসিতে জামায়াতের প্রস্তাব পরীক্ষার হলে প্রকাশ্যে নকলের ভিডিও ভাইরাল তাবিজের দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার দেবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ: কৃষকের দুই বিঘা জমির বোরো ধান নষ্ট পঞ্চগড়ের বোদায় ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রায় দেড় কোটি টাকার উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ পারিবারিক কলহ থেকে হতাশা, রাজধানীতে তরুণ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু পঞ্চগড়ে ছোট ভাই হত্যা: বড় বোন গ্রেপ্তার, অনৈতিক সম্পর্কের জেরে হত্যার দাবি পুলিশের আদিতমারীতে ২৯৬ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
চুরির অভিযোগে যুবলীগ নেতাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর

চুরির অভিযোগে যুবলীগ নেতাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে চুরির অভিযোগে এক যুবলীগ নেতাকে পাকা খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও লোকজনের কাছে চুরির দায় স্বীকার করে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। তাকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে চলছে সমালোচনা।

গত রবিবার উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের সাধেরখলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ইছা মিয়া (৩৫) সাধেরখলা গ্রামের সায়েদ আলীর ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধেরখলা হাজী এম এ জাহের উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রহিম মিয়ার দোকানে গত শনিবার রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন রবিবার সকালে অনেক খোঁজাখুঁজির পর চোর সন্দেহে ইছা মিয়াকে ধরে আনেন গ্রামের লোকজন। তাকে রহিমের দোকানের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করা হয়। তখন ইছা মিয়া চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর তার কাছ থেকে চুরি হওয়া কিছু মাল উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন ইছা মিয়ার পরিবারকে খবর দিলে তারা কেউ আসেননি। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্য রোপন মিয়াসহ আরও কয়েকজন মুরুব্বিকে ডেকে আনা হয়। ইছা মিয়া আর চুরির করবেন না মুচলেকা দেওয়ার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মারধরের ভিডিওতে দেখা যায়, ইছা মিয়া খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় ঘিরে থাকা মানুষদের হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে বলছেন, ‘আমার ঘরও মালটি আছে। মালটি আইন্যা দিই। আমারে একুট পানি খাওয়াও। তোমরা যা কও, আমি তাই রাজি। আমারে তোমরা আর মাইরো না, অত্যাচারটা কইরো না।’ তখন কেউ তার কাছে চুরি যাওয়া মোবাইলে সিম চাইছিলেন। আবার কেউ মসজিদের চুরি যাওয়া জিনিসপত্র কোথায় জানতে চান।

দক্ষিণ বড়দল ইউপির সদস্য রোপন মিয়া বলেন, ইছা মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই চুরির অভিযোগ আছে। গ্রামের রহিম মিয়ার দোকানে চুরির ঘটনায় এলাকার যুবকরা তাকে ধরে এনে বেঁধে রাখেন। পরে চুরির কথা স্বীকার করেন এবং কিছু মালামাল বের করে দেন। এরপর গ্রামের লোকজনের মতামতের ভিত্তিতে কাগজে মুচলেকা রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন মিয়া বললেন, ইছা মিয়া যুবলীগের সমর্থক। আমার জানামতে, সংগঠনের কোনও দায়িত্বে নেই। তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুক মিয়া বলেন, ‘আমি ২০২০ সালে দল থেকে পদত্যাগ করেছি। এখন কে আছে আর কে নেই, জানি না।’

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাকে কেউ বিষয়টি জানায়নি বা চুরির বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে চোর সন্দেহে কাউকে এভাবে ধরে এনে শাস্তি দেওয়া বেআইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com